‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!’: পরাজয়ের পর কালীঘাটে রুদ্রমূর্তি মমতার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কলকাতা | ৫ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পদত্যাগের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি。 মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না”。
বিজেপির জয় ও তৃণমূলের বিপর্যয়
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে。 অন্যদিকে, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হতে পেরেছে。 এই বিপর্যয়কর ফলাফলের পরপরই রাজনৈতিক মহলে মমতার পদত্যাগ এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়。
কালীঘাটে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
মঙ্গলবার বিকেলের এই সংবাদ সম্মেলনে মমতার পাশে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়。 এছাড়া দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিশ্বস্ত সিপাহসালার হিসেবে পরিচিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ওব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন。 শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে মমতা দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি বেছে নেন।
সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ মমতা
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পরবর্তী পরিকল্পনা ও মনের ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, “এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম, অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না”。 নিজেকে রাজপথের যোদ্ধা হিসেবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, “সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক, রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব”。
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
বিজেপির এই বিশাল জয়ের পর মমতার ইস্তফা না দেওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিপুল ব্যবধানে পরাজয়ের পরও পদ আগলে রাখার এই জেদ তৃণমূলের অন্দরে ও রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তবে মমতা তার অবস্থানে অনড় থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে হুঙ্কার দিয়েছেন, তা আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলের নেতারা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো কারচুপির অভিযোগ আনবেন কি না বা বিরোধী দল হিসেবে তাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে মমতার ‘রাস্তায় থাকার’ ঘোষণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিজেপির সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে তিনি রাজপথ থেকেই চ্যালেঞ্জ জানাবেন।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার