শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | বৈশাখ ১৯, ১৪৩৩

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
বৈশাখ ১৯, ১৪৩৩
তারেক রহমান

নিজেকে ‘দেশ গড়ার শ্রমিক’ হিসেবে ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী: বন্ধ কলকারখানা চালুর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-০২ ০৩:৪৭:২৬

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শ্রমিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নিজেকে ‘দেশ গড়ার শ্রমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা যেমন বিভিন্ন সেক্টরে দেশের চাকা সচল রাখেন, তেমনি তিনি নিজেও এবং তার মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য নিজেদের নাম শ্রমিক হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত করতে চান। দেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের সাথে একাত্ম হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের শিল্প খাতের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে দেশের বহু শিল্প কলকারখানা বন্ধ করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। এই সংকট নিরসনে তিনি ঘোষণা দেন যে, যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বর্তমান সরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কেবল বন্ধ কারখানা চালু করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দেশে এবং বিদেশে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যেই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, নতুন কলকারখানা তৈরি হলে দেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তার মতে, শ্রমিক ও কৃষকরা ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এই বঞ্চনার ফলেই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজধানীর জনভোগান্তি ও হকার পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, যানজট কমাতে সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদের জীবিকার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল হকারকে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরিত করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

SStv