মার্কিন জলদস্যুতার শিকার
৮ লক্ষ ব্যারেল তেলসহ 'ম্যাজেস্টিক এক্স’ জাহাজটি এখন ওয়াশিংটনের জিম্মায়
ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক জব্দকৃত 'এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স' জাহাজটি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পিত দস্যুতা চালিয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ।
এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স: জাহাজের বিবরণ
প্রযুক্তিগত তথ্যানুযায়ী, এম/টি ম্যাজেস্টিক এক্স একটি বিশাল আকৃতির বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার (Aframax Class), যা মূলত দূরপাল্লার জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত।
রাষ্ট্রহীন তকমা: মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ (Stateless) বলে দাবি করলেও, স্বাধীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রায়ই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও হয়রানি এড়াতে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে।
গন্তব্য: জাহাজটি ভারত মহাসাগর হয়ে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন গোয়েন্দারা ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর এই ঝটিকা অভিযান চালায়।
কী আছে এই জাহাজে?
মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের গোপন নথির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জাহাজটি একটি ভাসমান জ্বালানি খনি হিসেবে কাজ করছিল। এতে থাকা পণ্যসামগ্রীর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
অপরিশোধিত তেল: জাহাজটিতে প্রায় ৮ লক্ষ থেকে ৯ লক্ষ ব্যারেল উচ্চমানের ইরানি অপরিশোধিত তেল (Iranian Light Crude) রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যার বর্তমান মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।
বিপজ্জনক রাসায়নিক: তেলের পাশাপাশি জাহাজটিতে পরিশোধিত কিছু পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংকেত ব্যবস্থা: আটকের সময় জাহাজটির অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ ছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ‘ডার্ক শিপিং’ বা ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, যা তেহরানের তেল রপ্তানির অন্যতম কৌশল।
জবরদখল ও তেলের ভবিষ্যৎ
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরণের জাহাজ জব্দ করার পর তেলের মালিকানা নিজেদের দাবি করে এবং পরে তা নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ হাতিয়ে নেয়। একে সরাসরি ‘সমুদ্রপথে রাষ্ট্রীয় ডাকাতি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক উত্তেজনা
ভারত মহাসাগরে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ও ৫ম নৌবহরের এই যৌথ অভিযান তেহরানকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের এই বিশাল তেলের চালান জব্দ করা মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নতুন আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও পেন্টাগন নিউজ