শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | বৈশাখ ১১, ১৪৩৩

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখ ১১, ১৪৩৩
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

মোদির ঝালমুড়ি ‘কূটনীতি’: তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে ইসিকে অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৩ ১৭:২৯:৫২

কৃষ্ণনগর, পশ্চিমবঙ্গ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীনই রাজ্য সফরে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি যেমন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশংসা করেছেন, তেমনি ‘ঝালমুড়ি’ নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন কড়া রসিকতায়। ২৯ এপ্রিল কৃষ্ণনগরে ভোটগ্রহণের আগে মোদির এই সফরকে বিজেপির জন্য বড় ধরনের ‘বুস্ট’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সহিংসতা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে মোদি দাবি করেছেন, গত ৫০ বছরে এবারের নির্বাচনই সবচেয়ে ব্যতিক্রম। প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আরও একবার গণতন্ত্র (লোকতন্ত্র) প্রতিষ্ঠা করেছে। অতীতে এখানে ভোটের সময় যে অরাজকতা ও সহিংসতা দেখা যেত, কমিশন এবার কঠোর হাতে তা দমন করছে। শান্তিপূর্ণ ভোটদানের এই পরিবেশ তৈরির কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তাঁদের।”

মোদি কেবল কমিশনকেই নয়, বরং ভোটপ্রক্রিয়ায় যুক্ত সরকারি কর্মচারীদেরও সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সাধুবাদ জানান। তাঁর মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতার কারণেই এবার সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন।

‘ঝালমুড়ি’ নিয়ে মোক্ষম চাল ও তৃণমূলকে খোঁচা

কদিন আগে ঝাড়গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মতো ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো একে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করেছিল। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মোদি তার নিজস্ব শৈলীতে এর পাল্টা জবাব দেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন:

“বিজেপি জিতলে রাজ্যে মিষ্টির সাথে ঝালমুড়িও বিতরণ করা হবে। শুনলাম, আমার ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে অনেকের ব্যাপক ‘ধাক্কা’ লেগেছে। আসল কথা হলো—ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের নেতাদের!”

মোদির এই শ্লেষাত্মক মন্তব্য উপস্থিত জনতাকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র অভ্যাসের সাথে মিশে যাওয়াটাও বিরোধীরা সহ্য করতে পারছে না।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

বিজেপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারির কারণে তারা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে এবং এই পরিবর্তন আর থামানো সম্ভব নয়।

স্থানীয় সমীকরণ ও কৃষ্ণনগর জয়

কৃষ্ণনগর ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে সচেতন একটি এলাকা। ২৯ এপ্রিলের ভোটকে সামনে রেখে মোদি সাধারণ ভোটারদের মনে এই বিশ্বাস ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু সুশাসন নয়, বরং সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির (যেমন ঝালমুড়ি ও মিষ্টি) মর্যাদা রক্ষা করা হবে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা

SStv