শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | বৈশাখ ১১, ১৪৩৩

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখ ১১, ১৪৩৩
বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডে

টাইগারদের দাপুটে জয়: ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়লো শান্তর দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৩ ১৯:৩৭:২৭

ঢাকা: মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আরও একবার বাঘের গর্জন। মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার-তাণ্ডব আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য শতকে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয় কেবল একটি সিরিজ জয় নয়, বরং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে টাইগারদের আত্মবিশ্বাসের এক বড় রসদ।

শান্তর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও লিটনের ফেরা

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ২৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। ইনিংসের শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কায়। অন্যপ্রান্তে ফর্ম নিয়ে চাপে থাকা লিটন দাসের ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসটি ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের রেকর্ড গড়া জুটিই বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয়ের ২৯ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও সংগ্রহটিকে ২৬৫-তে নিয়ে ঠেকায়।

মোস্তাফিজের সেই পুরনো ‘বিষাক্ত’ কাটার

২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান। গত কয়েক ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মোস্তাফিজ আজ যেন ফিরে গিয়েছিলেন সেই ২০১৫ সালের বিধ্বংসী রূপে। ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। ফিজের ধূর্ত স্লোয়ার আর মরণঘাতী কাটারে কিউইদের টপ ও মিডল অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এটি ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে মোস্তাফিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ‘ফাইফার’।

মিরাজের ‘ফ্লাইং’ ক্যাচ ও টার্নিং পয়েন্ট

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচ। ৩৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে নাথান স্মিথ যখন মিড-উইকেটে উড়িয়ে মারেন, তখন মনে হয়েছিল সেটি নিশ্চিত বাউন্ডারি। কিন্তু মিরাজ বাজপাখির মতো শরীর ছুঁড়ে দিয়ে অবিশ্বাস্য এক ডাইভে বলটি তালুবন্দি করেন। এই একটি মুহূর্তই নিউজিল্যান্ডের শেষ প্রতিরোধ চূর্ণ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ক্যাচটিকে ইতোমধ্যেই 'জেনারেশনাল ক্যাচ' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

ফক্সক্রফটের লড়াই ও চূড়ান্ত পরিণতি

ইনিংসের শেষ দিকে ডিন ফক্সক্রফট ৭২ বলে ৭৫ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়েছিলেন। তাঁর ৭টি ছক্কার বিপরীতে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা চাপে পড়লেও মোস্তাফিজ তাঁর শেষ স্পেলে এসে ফক্সক্রফটকে বিদায় করে কিউইদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ২১০ রানে।


একনজরে চূড়ান্ত স্কোরকার্ড:

  • বাংলাদেশ: ২৬৫/৮ (৫০ ওভার)

    • শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩

    • ও'রুরকে ৩/৩২

  • নিউজিল্যান্ড: ২১০/১০ (৪৪.৫ ওভার)

    • ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯

    • মোস্তাফিজুর রহমান ৫/৪৩, নাহিদ রানা ২/৩৭, মিরাজ ২/৩৬

  • ফলাফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।

  • সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

এই সিরিজের জয় বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পেস আক্রমণে মোস্তাফিজের ফর্মে ফেরা এবং অধিনায়কের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া—টাইগারদের ক্রিকেটে নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মিরপুরের মন্থর উইকেটেও যেভাবে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

SStv