সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | বৈশাখ ৭, ১৪৩৩

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখ ৭, ১৪৩৩

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রটোকলে বড় পরিবর্তন: নতুন নির্দেশনা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২০ ২০:১৫:১৩

ঢাকা: মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফর এবং বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সোমবার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নতুন একটি নিদের্শাবলি প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল জারি করা এই নতুন প্রটোকল অনুযায়ী, এখন থেকে ভিভিআইপিদের প্রটোকলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা পুলিশ সুপারদের (এসপি) উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা আগের চেয়ে শিথিল করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রটোকল বাতিল করে নতুন এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর ও বিদেশ সফর

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বিদেশে যাওয়ার সময় বা বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অথবা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হবে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বা যশোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রটোকল দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার আবশ্যকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যদি না বিশেষ কোনো প্রয়োজন থাকে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রটোকল

জেলা সদরে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের আগমন ও বিদায়ের সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে:

  • মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে ডিসি বা এসপিদের নিজেদের পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল করতে হবে না।

  • তাদের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

  • তবে মন্ত্রী যদি ব্যক্তিগতভাবে ডিসি বা এসপি-র উপস্থিতির ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কেবল তখনই তারা সফরসূচি বাতিল করে উপস্থিত হবেন।

উপজেলা পর্যায়ে প্রটোকলের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী পুলিশ সুপারদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে ডিসি বা এসপিদের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ও রেলভ্রমণ

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জেলা পুলিশ সুপারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ সুপারকে অগ্রিম ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেন বদল বা বিরতির স্থানগুলোতে অন্তত একজন পুলিশ পরিদর্শক বা উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া চট্টগ্রামে যাতায়াতের সময় রেলওয়ে পুলিশ সুপারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সরকারি বনাম ব্যক্তিগত সফর

নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সফরসূচি প্রণয়নের সময় সেটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা আগেভাগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। সরকারি সফরে যানবাহন ও বাসস্থানের খরচ সরকার বহন করলেও, ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মে সেবার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এমনকি সার্কিট হাউজের বদলে নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও নিরাপত্তার নিয়মগুলো একই থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রটোকল ডিউটির চাপ কমিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে বেশি মনোযোগী করতেই সরকার এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

SStv