শিয়ালদহ স্টেশনে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর ভাষ্কর্য দেখে অভিভূত
প্রকাশিত : ০৩:৫৫ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২২ রোববার
শিয়ালদহ-স্টেশনে-বঙ্গবন্ধু-ও-মহাত্মা-গান্ধীর-ভাষ্কর্য-দেখে-অভিভূত
পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী আর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, হঠাৎ চোখে পড়তেই অন্যরকম এক শিহরণে শরীর কেঁপে উঠলো। মূলত ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল একটি মঞ্চনাটকে অভিনয় করা। কলকাতার একটি নাট্য সংগঠনের আমন্ত্রণে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ থেকে একটি টিম যাই। আব্দুল আওয়াল সরকার রচিত নাটক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই যাত্রাপালা‘আপন ভাই’২২ আগস্ট রাতে দ্বিতীয় জাহ্নবী নাট্যমেলায় মুক্ত অঙ্গন রঙ্গালয়ে প্রদর্শিত হয়।
এরপর কলকাতা থেকে বাংলাদেশ আসার জন্য শিয়ালদহ রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। সেখান থেকে বনগাঁ স্টেশন আসবো। মোটামুটি ভালোই বৃষ্টি হচ্ছিল। কলকাতার হোটেলের সামনে থেকে ট্যাক্সি ক্যাব ভাড়া করি শিয়ালদহ স্টেশন পর্যন্ত। সঙ্গে ছিলেন আমার বিভাগের শিক্ষক এবং নাটকের নির্দেশক সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা ও বিভাগের অন্য দুইজন শিক্ষার্থী।
স্টেশনের সামনে পৌঁছে ভারতের জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধীর পাশে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্য দেখে আনন্দে উদ্বেলিত হই।
ছবি তোলার জন্য সঙ্গে সঙ্গে ক্যাব থেকে নামতে চাই। কিন্তু বৃষ্টির জন্য নামতে পারিনি। ওদিকে ১১টা ৩৮ মিনিটে আমাদের ট্রেনের সময় ছিল। অথচ ইতিমধ্যে ঘরিতে সময় দেখাচ্ছে ১১ টা ২৫ মিনিট। স্যারের কাছে ৫ মিনিট সময় নিয়ে ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে দৌড়ে যাই। দুইপাশে গাড়ির প্রচণ্ড চাপ ছিল রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে একরকম ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়ালাম, দেখলাম এবং সশ্রদ্ধ স্যালুট দিলাম। বৃষ্টি থাকায় ছবি তোলার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করতে ভোলেনি সাকিব।
সেই আনন্দ আর গৌরবপূর্ণ অনুভূতি নিয়ে পৌঁছালাম বনগাঁ স্টেশনে। কিন্তু সেই ঘোর যেন কাটছিলোই না। বনগাঁ স্টেশনে নেমে ইজিবাইকে করে বাংলাদেশে প্রবেশ করলাম। এমন এক অনুভূতি নিয়ে দেশে ফিরেছি এবং দেশের মানুষকে জানাতে পেরেছি ভেবে আমি ভীষণ আনন্দিত।
লেখক: শিক্ষার্থী, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।